অগ্নিশ্বর কলা বা লাল কলার উন্নত মানের চারা
অগ্নিশ্বর কলা বা লাল কলা
অঞ্চলভেদে কলার পরিকল্পিত বাণিজ্যিক আবাদ রয়েছে। তবে অগ্নিসাগর কলার বাণিজ্যিক আবাদ তেমন একটা চোখে পড়ে না। অথচ দৃষ্টিনন্দন এই কলা দেখলেই হাত বাড়াতে ইচ্ছা জাগে। জাগ্রত হয় রসনা।
অগ্নিসাগর কলা এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশে জন্মে। রঙের কারণে অগ্নিসাগর রেড ব্যানানা বা লাল কলা নামেও পরিচিত। এর খোসার রং হলুদাভ কমলা, গাঢ় কমলা, লাল ও লালচে বেগুনি হয়ে থাকে। ভেতরটা প্রচলিত জাতের কলার মতোই হালকা ঘিয়ে রঙের। তবে কখনো কখনো গোলাপি আভাও থাকে। এই জাতের কলায় ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশি থাকে। সে সুবাদে নানা রোগের বনাজি ওষুধ তৈরিতেও এর ব্যবহার আছে। নানা গুণের কারণে এর চাহিদাও অন্যান্য কলার চেয়ে বেশি।
উপকূলীয় লালপুর ও নাটোর সদর অঞ্চলে কান্দি ও বেড় পদ্ধতিতে নানা জাতের কলার আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে নাটোর সদর উপজেলার, ছাতনী, মাঝদীঘা ও আগদীঘাতে কলা চাষের বাণিজ্যিক প্রসারতা আছে। এসব অঞ্চলে সব ধরনের কলার চাষ হয়ে থাকে। ব্যতিক্রম কেবল অগ্নিসাগর। ফলে এই কলা সহজলভ্য নয়।
দাম ও চাহিদা বেশি থাকায় এখন অগ্নিসাগর কলার বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকছে চাষিরা। ইতিমধ্যে কাউখালীতে বাণিজ্যিকভাবে অগ্নিসাগর কলার আবাদ শুরু হয়েছে। আর শুরুতেই এই জনপদের অর্থকরী ফসলের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এটি।
স্থানীয় কৃষক ও নাটোর কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, বছর দশেক আগে নাটোর উপজেলায় হাতে গোনা দু-তিনটি অগ্নিসাগর কলার ক্ষেত চোখে পড়ত। সমপ্রতি স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের লোকায়ত কৃষিজ্ঞান ও কৌশল কাজে লাগিয়ে অগ্নিসাগর কলার আবাদ সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। স্থানীয় চাষিদের দেখে বেকার যুবকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে অগ্নিসাগর জাতের কলা চাষে। প্রতি একর জমিতে ৮০০ থেকে এক হাজার চারা রোপণ করা যায়। ১১ থেকে ১২ মাসেই রোপণ করা গাছ থেকে কলা পাওয়া যায়।
এই অগ্নিসাগর বা লাল কলার চারা ক্রয় করতে আমাদের সাথেই থাকুন।

কোন মন্তব্য নেই: